উঠতি বয়সীদের ১১টি সমস্যা ও সমাধান

নির্বাচিত প্রশ্নের মূল পেইজ

সমস্যা:আমি, মানুষের সাথে মিশতে পারি না। এজন্য সবসময় মন খারাপ থাকে।

আমার উত্তর:ধরলাম তুমি মানুষের সাথে মিশতে পারো না দেখে চুপচাপ বাসায় বসে থাকো। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বাসায় বসে বসে কি করো? ভালো করে পড়ালেখা করো? নতুন কিছু শিখো? কোন স্পেশাল স্কিল ডেভেলপ করো? করো টা কি? আসলে মানুষের সাথে মিশতে না পারা সমস্যা না। বরং কিছু না করে বাসায় চুপচাপ বসে থাকাটা সমস্যা। সো, অজুহাত দেখিয়ে চুপচাপ বসে না থেকে সময়গুলো কাজে লাগাও। তাহলেই মিশতে না পারা মানুষটাই জীবনে সফল হয়ে যাবে।

সমস্যা:আমি খুবই হতাশ। এই সাবজেক্টে, এই ভার্সিটিতে পড়ে কি হবে? আমার ড্রিম ছিলো মেডিকেল বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েট।

আমার উত্তর:শুনো, হতাশ হওয়া খুবই সোজা। হতাশ হওয়ার জন্য কিছুই করা লাগে না। খালি বসে বসে চিন্তা করলেই হতাশ হওয়া যায়। কিন্তু কোন কিছু করে দেখাতে, কোন কিছু অর্জন করতে কষ্ট করা লাগে। দিনের পর দিন মাসের পর মাস, আরাম আয়েশ ভুলে লেগে থাকা লাগে। হোঁচট খেয়ে খেয়ে উঠে দাঁড়ানোর ইচ্ছা রাখা লাগে। সেই লেভেলের চেষ্টা নিচে মাঠে নামলে তোমার ভার্সিটি, তোমার সাবজেক্ট কোন কিছুই, তোমার ফিউচারের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। আসলে তোমার ফিউচারের জন্য একমাত্র বাধা হচ্ছ তুমি। তাই তোমার চিন্তাভাবনা বন্ধ রেখে কোন কিছু একটা করার চেষ্টা করো। তাহলেই সব লাইনে চলে আসবে।

সমস্যা:আমি সেকেন্ড বা থার্ড বা ফার্স্ট ইয়ারে পড়তেছি। এখন থেকে কিভাবে পড়লে বিসিএস এ টিকতে পারবো?

আমার উত্তর:আমার মতে, ক্লাসের পড়া বাদ দিয়ে বিসিএস এর প্রিপারেশন নেয়া বোকামি। কারণ যে ক্লাসের পড়া সিরিয়াসলি পড়তে পারে, সে পাশ করার পরে বিসিএস এর প্রিপারেশনও সিরিয়াসলি নিতে পারবে। আর যে ফার্স্ট, সেকেন্ড বা থার্ড ইয়ারে এইসব নিয়ে লাফালাফি করে, সে ফাইনাল ইয়ারে উঠার আগেই, আমার দ্বারা হবে না বলে উল্টা রাস্তায় পালায়। তবে বেশি চুলকানি হলে, ক্লাসের পড়া ঠিক রেখে টিউশনি করে ক্লাস সেভেন, এইট, নাইনের অংকগুলি প্র্যাকটিসে রাখো। নিয়মিত পত্রিকায় চোখ রাখো। পরীক্ষার পরে, ক্লাস শুরুর আগের অবসর সময়ে বাজার থাকে যেকোন একটা গাইড বই এনে খুলে দেখো। (সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ: পরামর্শদাতা জীবনে কোনদিন বিসিএস পরীক্ষা দেয়া তো দূরের কথা, কোন গাইড বইও খুলে দেখেনি)

সমস্যা:হায়ার স্টাডি করতে চাই। যদিও আমার রেজাল্ট খুবই খারাপ ৩ বা ৩.২ এর নিচে।

আমার উত্তর:সত্যি কথা বললে- হায়ার স্টাডি তোমার মতো ফাঁকিবাজদের জন্য না। তোমার এই কন্ডিশন বা এই লাইফ স্টাইল দিয়ে হায়ার স্টাডি কোনদিনও করতে পারবা না। হয় তোমার লাইফ-স্টাইল চেইঞ্জ করো। যে কয়টা সেমিস্টার বাকি আছে, সেগুলাতে ৩.৭ এর বেশি তোলার চেষ্টা করো। পাশ করার পরে GRE, TOEFL বা IELTS খুবই সিরিয়াসলি দিয়ে ভালো স্কোর তোলো। তাহলে হালকা কিছু আশা করা যেতে পারে। বাই দ্য ওয়ে, If you want to change your life, don't wait for a miracle. Create a miracle.

সমস্যা:ফিউচার নিয়ে খুবই কনফিউজড। বিসিএস দিবো, নাকি দেশের বাইরে যাবো? ব্যাংকে ট্রাই করবো, নাকি ফ্রিলাঞ্চিং শিখার চেষ্টা করবো?

আমার উত্তর:শুনো, আজ থেকে দশ বছর পরে তুমি বিসিএস ক্যাডার, সরকারি চাকুরী, বিজনেসম্যান, যাই করো না কোনো। যে কোন একটা তো করবা? দুই বা চারটা লাইনে-তো আর যাইতে পারবা না? সো, শুধুমাত্র একটা জিনিসে টার্গেট সেট করো। অন্য কিছুতে অন্য কেউ দুনিয়া উল্টায় ফেলুক- তুমি যে টার্গেট সেট করছো সেটার শেষ দেখা না পর্যন্ত অন্য কোন লাইন সম্পর্কে চিন্তা করবা না। ফোকাসড থাকতে হবে। যেকোন একটা লাইনে শুরু করলে সেটার শেষ পর্যন্ত দেখে ছাড়তে হবে। এই-লাইনে দুই দিন, ঐ লাইনে দুই দিন ঠুসা মারলে তোমার কপাল ফাঁটা ছাড়া আর কোন লাভ হবে না। আর মনে রাখবা- ক্যারিয়ারে খিচুড়ি বলতে কিছু নাই।

সমস্যা:আমার পড়া মনে থাকে না। আমি মানুষের সামনে কথা বলতে পারি না। কমিউনিকেশন স্কিল খারাপ।

আমার উত্তর:ধরলাম তোমার পড়া মনে থাকে না। তাহলে তুমি কি সব সাবজেক্টেই ফেল করো? সব ভাইবাতেই শূন্য মার্কস পাও? না পাও না। তাহলে তোমার যে কিছুই মনে থাকে না এই কথা সত্য না। হয়তো সব কিছু মনে থাকে না। অল্প কিছু মনে থাকে। আবার প্রেজেন্টেশন স্কিলের দিকে দিয়ে তুমি হয়তো এভারেজ। ক্লাসের সবচাইতে খারাপ না। তাছাড়া তোমার কমিউনিকেশন স্কিল একদম না থাকলে, তুমি আমার সাথে কথা বলতেই পারতা না। সো, আজাইরা টেনশন না করে- প্রেজেন্টেশন আগে বাসায় পাঁচবার প্রাকটিস করে যাবা। পরীক্ষার আগে নিজে নিজে না দেখে দেখে খাতায় উত্তর লিখবা। দরকার হলে নিজে নিজে মডেল টেস্ট দিবা। তাহলে একটু একটু করে অবস্থার উন্নতি হবে।

সমস্যা:এইখানে ভর্তি হয়ে থাকলাম। সেকেন্ড টাইম ভালো করে এডমিশন টেস্ট দিবো।

আমার উত্তর:শুনো, ভর্তি হয়ে আছো ভালো কথা। কিন্তু এইখানে ক্লাস করে আবার সেকেন্ড টাইম ভালো করে এডমিশন টেস্ট দেয়ার চিন্তা করলে। কোনটাই ঠিক মতো হবে না। বরং এইখানের রেজাল্টও খারাপ হবে। দুই এক সাবজেক্টে ফেল করে বসতেও পারো। আবার এইখানে ক্লাস-পড়ালেখা কোন রকমে করে সেকেন্ড টাইম ট্রাই করতে গেলেও ৯০% শিউর সেকেন্ড টাইমও কোথাও চান্স পাবা না। হয়- ভর্তি রেখে, শুধু এডমিশন টেস্টের জন্য সিরিয়াসলি পড়ো। অথবা সেকেন্ড টাইম এডমিশন টেস্ট দেয়ার চিন্তা বাদ দিয়ে এইখানে ভালো করে পড়ার চেষ্টা করো। এইখান থেকে অনেক ভালো কিছু করা সম্ভব। এডমিশন টেস্ট জীবনের শেষ খেলা না। আরো অনেক খেলা বাকি আছে।

সমস্যা:কখনোই খারাপ স্টুডেন্ট ছিলাম না। ssc, hsc দুইটাই গোল্ডেন। কিন্তু না পাইছি পছন্দের ভার্সিটি, না পাইছি পছন্দের সাবজেক্ট। এগুলা নিয়ে খুবই হতাশ।

আমার উত্তর:শুধু গোল্ডেনের জন্য পড়লে আগে যত ভালো স্টুডেন্টই থাকো না কোনো, ভর্তি পরীক্ষায় বাঁশ খাবা সেটাই স্বাভাবিক। তাছাড়া তখন হয়তো তোমার কলেজের ৪০-৫০ জনের মধ্যে তুমি ভালো স্টুডেন্ট ছিলা। এখন দেশের লাখ লাখ স্টুডেন্টের সাথে তোমার কম্পিটিশন। তাই এখন যেখানে গেছো, যাদের সাথে আছো, সেটাই তোমার বাস্তবতা। বাস্তবতাকে যত দ্রুত মেনে নিয়ে, এই পজিশন থেকে ভালো করার চেষ্টায় ঝাঁপিয়ে পড়বে তোমার জন্য তত মঙ্গল হবে। নচেৎ এখন যেখানে গেছো, সেখানকার এভারেজ পোলাপানের চাইতেও তোমার অবস্থা আরো খারাপ হবে। গ্যারান্টি।

সমস্যা:আমার তো কম্পিউটার সায়েন্সের ডিগ্রি নাই। আমি কি বাইরের ক্লায়েন্টের কাজ করতে পারবো। বাইরের কোম্পানি আমাকে ফুল টাইম হায়ার করবে?

আমার উত্তর:ফেইসবুকে হাসিন হায়দার, রাসেল আহমেদ এর নাম শুনছো? উনাদের কারোরই কম্পিউটার সায়েন্সের ডিগ্রি নাই। আসলে অফিসিয়াল সার্টিফিকেটের চাইতে তোমার কাজ, তোমার স্কিলই তোমার সবচেয়ে বড় সার্টিফিকেট। এমন অনেকের সাথে কথা বলেছি যাদের প্রফেশনাল লেভেলে কাজ করতেছে, যারা কম্পিউটার সায়েন্স পড়াতো দূরেই থাক, এখনো পড়ালেখাই শেষ করে নাই। সো, কাজের পাশাপাশি নতুন কিছু শেখার জন্য এক্সট্রা টাইম দিতে থাকো। প্রাকটিস করতে থাকো। চেষ্টার লাগাম ধরে রাখো। তাহলে কোন কিছুই তোমাকে আটকে রাখতে পারবে না।

১০

সমস্যা:সারাক্ষণ শুধু ব্রেকআপের চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খায়। পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে পারতেছি না। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

আমার উত্তর:শুনো, যে প্রেম ব্রেক আপ হয়ে গেছে। সেই প্রেম তোমার জন্য ছিলো না। একটু খেয়াল করলেই বুঝতে পারবা- সে ইচ্ছা করে তোমাকে ইগনোর করতো, প্যারা দিতো। তোমাকে প্রায়োরিটি দিতো না, রেসপেক্ট করতো না। বরং সারাক্ষণ আমাদের হবে না। ফ্যামিলি মানবে না। এইসব বলতো। আসলে সে সেইফ সাইডে থাকার চেষ্টা করতো। সুযোগ মতো তোমাকে দোষ দিয়ে, অন্য ঢালে ঝুলে পড়ছে। এখন তুমি কি প্রেম মিস করতেছো? নাকি তোমাকে ইগনোর করা, প্যারা দেয়াকে মিস করতেছো? কার জন্য সময় নষ্ট করতেছো? তোমার অতীতের জন্য না তোমার ফিউচার ধ্বংস করার জন্য?

১১

সমস্যা:ছোটবেলায় এবিউজড হইছি। অনেক লাঞ্ছনার স্বীকার হইছি। এখন অনেক ফ্রাস্ট্রেশন। কোন কিছুই ঠিক মতো করতে পারতেছি না।

আমার উত্তর:এইটা স্যাড যে তোমার সাথে অনেক অন্যায় হইছে। সেটার জন্য এখনো তোমাকে ভুগতে হচ্ছে। আর এবিউজকারীরা হয়তো আরামেই আছে। তবে তুমি চাইলে এইসব খারাপ লাগা থেকে বের হয়ে তোমার ফিউচার ডেভেলপ করার দিকে মনোযোগ দিতে পারো। এখন একটা কথা বলো- এই যে তোমার খারাপ লাগাগুলো, এগুলা কি তোমার পরীক্ষার হলে মনে হয়? না, হয় না। যখন বাস ছেড়ে দিচ্ছে দেখে তুমি বাসে উঠার জন্য দৌড়ে দিচ্ছ, তখন কি এই কথাগুলো মনে হয়? না, হয় না। তারমানে তুমি যখন ব্যস্ত থাকো, প্রেসারে থাকো, তখন তোমার মনে হয় না। যখন রিলাক্স থাকো, ফ্রি থাকো, অবসরে থাকো, তখন মনে হয়। তাহলে এই জিনিসগুলো ভুলে সামনে এগুতে চাইলে- তোমাকে যেকোন দুইটা জিনিস নিয়ে ব্যস্ত হতে হবে। প্রথমত: তোমার পড়ালেখা নিয়ে। তুমি বাসায় এসে প্রতিদিনের পড়া শেষ করবা। নোট বানাবা। সেগুলা ক্লাসমেটদের সাথে শেয়ার করবা। নেক্সট সেমিস্টারে ৩.৫ এর উপরে জিপিএ তুলবা। এইটা তোমার টার্গেট। তারপর পড়ালেখার বাইরে যেকোন একটা জিনিস নাচ, গান, প্রোগ্রামিং, ভলান্টিয়ারিং, কিছু একটা নিয়ে ব্যস্ত থাকবা। তাহলে এই জিনিসগুলা কম মনে পড়বে এবং সামনে এগিয়ে যাওয়া সহজ হবে।


FB post