মাসিক খরচ বনাম ফিউচার খরচ

সুখী হওয়ার চেষ্টাই সংগ্রাম

Family Struggle main page

আজকে যদি তোমার চাকরিটা চলে যায়। আজকে যদি তোমার ফ্যামিলির মেইন ইনকাম সোর্সটা বন্ধ হয়ে যায়। তোমার কি হবে? তোমার ফ্যামিলির কি হবে? যতটুকু সেভিংস আছে সেটা দিয়ে কতদিন চলবে?

শুনো, চাকরি হচ্ছে লং টার্ম সমস্যার শর্ট টার্ম সল্যুশন। আজকে চাকরি নাই তো আজকে থেকে বেতন নাই। কিন্তু আজকে চাকরি থাকুক বা না থাকুক, আজকের খাওয়া দাওয়া, বাসা ভাড়া, সংসারের খরচ, পকেট খরচ, কেউ অসুস্থ হয়ে গেলে ডাক্তারের খরচ ঠিকই আছে। এইসব খরচ সারা জীবনের প্রতিটা মাসে, প্রতিটা দিনে থাকবে। চাকরি থাকুক বা না থাকুক এইসব খরচ থাকবেই। তাই শুধুমাত্র চাকরির উপর নির্ভর না থেকে, অল্টারনেটিভ ইনকাম বাড়াও। কষ্ট হলেও খরচ কমাও, সেভিংস বাড়াও, সম্পদ বাড়াও।

তুমি ১০ হাজার বা ৯০ হাজার, যত টাকাই বেতন পাও না কেনো। মাস শেষে যদি ফুটা পয়সা তোমার পকেটে না থাকে, তাহলে তুমি একজন ভিখারি। যেকোন মুহূর্তে তোমাকে খালি বাটি হাতে রাস্তায় নেমে যাওয়া লাগতে পারে। বিপদে পড়লে বুঝতে পারবে, আশেপাশের বন্ধু প্রতিম লোকদের হাওয়া হয়ে যেতে কত সেকেন্ড সময় লাগে।

তাই তুমি যত টাকাই ইনকাম করো না কেন। তার ৬০% হবে তোমার মাসিক খরচ। যেটা দিয়ে তুমি বাসা ভাড়া, খাওয়া খরচ, যাতায়তের ভাড়া, টুকটাক কিছু জিনিসপত্র কিনা লাগলে সেটার পিছনে খরচ করবে। আর ৩০% যাবে তোমার অদূর ভবিষ্যতের বড় কোন খরচের পিছনে। যেমন ধরো তুমি বিয়ে করতে চাচ্ছ সেটার খরচ, ল্যাপটপ, মেডিকেল ইমার্জেন্সি, গাড়ি /বাড়ি, সন্তানের পড়ার খরচ এইসবের পিছনে। তবে মিনিমাম একবছর চলার খরচ হাতে রাখে বাকিটা খরচ করবে। চাকরীর পাশাপাশি অন্য কিছু করতে চাইলে এই ৩০% দিয়ে ইনভেস্ট করবে। আর বাকি ১০% যাবে তোমার লংটার্ম ফিউচারের জন্য, রিটায়ারমেন্টের জন্য। যাতে বুড়ো বয়সে অন্য কারো মুখাপেক্ষী হওয়া না লাগে।

মনে রাখবে, যে সারা জীবন চাকরির অর্জন দিয়ে যে শুধু ফ্ল্যাট, গাড়ি, বা গোল্ড কিনে, সে শেষ জীবনে চরম অর্থকষ্টে ভুগবে। তাই ৬০-৩০-১০ রুল ফলো করে কিছুটা সঞ্চয়, কিছুটা সম্পদ আর কিছুটা অল্টারনেটিভ ইনকাম সোর্স দিয়ে এগুতে থাকবে। তাহলেই তোমার ফাইনান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি আসবে।


FB post




Question or Feedback:

যদি লোকসম্মুখে প্রশ্ন জিগ্গেস করতে বা উপদেশ, বকাঝকা, গালাগালি, হুমকি দিতে সংকোচ লাগে তাইলে ইমেইল করে দেন jhankar.mahbub@gmail.com