Admission coaching - Struggle

Just another Dude.

স্ট্রাগল, টু বি কন্টিনিউড

ভর্তি কোচিং::

বহুকাল আগে, সেলফি, ল্যাপটপ এমনকি মোবাইলের যুগেরও আগে। আমি থাকতাম কুড়িল বিশ্বরোড, ফ্রেন্ডের বাবার টিন শেড এ। ঐ টিন শেড এ ৬টা রুম ছিলো। সেখানে ৫টি রুমে, ৫টি ফ্যমিলি থাকতো আর কোনার একটা রুমে থাকতাম আমি আর আমার ফ্রেন্ড। আমি কোচিং করতাম ওমেকাতে ও করতো UCC তে ।

কোচিং এ যাওয়া-আসা ::

একদিন এমন অবস্থা দাড়াইছে যে, বিশ্বরোড থেকে ফার্মগেট কোচিং এ যাওয়া-আসার মত টোটাল ছয় টাকা তো দূর কি বাত, আমার কাছে এক টাকাও নাই। টাকা চাহিয়া পিতার নিকট পুত্রের পাঠানো পত্রের জবাব বা অর্থ এখনো আসিয়া পৌঁছে নাই। স্টেটাস আপডেট নেবার কোনোরূপ উপান্তর নাই। আশেপাশের চার ফ্যামিলির কাছ থেকে টাকা ধার করা শেষ। বাকি এক ফ্যমিলি নিজেরাই ভিক্ষা করে চলে। আমি গিয়ে টাকা ধার চাইতে পারি কিনা, বুঝতে পারতেছিলাম না। এমতাবস্তায়, আমি বাসায় বসে, বাপের উপর মন খারাপ করতে পারতাম, ভাগ্যরে গালি দিতে পারতাম। কিংবা বিশ্বরোডের উপরে রঙিন টিভির শোরুমের কাঁচের বাইরে দাড়িয়ে ক্রিকেট খেলা দেখতে পারতাম। অথবা দুপুরে কি খাবো সেটা নিয়ে চান্দি গরম করতে পারতাম। টেনশনে নিজের আঙ্গুলের নখ দাত দিয়ে কেটে কেটে ছিড়তে পারতাম।

মানিব্যাগ বাসায় ফেলে এসেছি::

শেষমেষ এইসব কিছু না করে, কুড়িল বিশ্বরোড গিয়ে ৩ নম্বর বাসে গিয়ে উঠে দাড়ালাম। বনানী আসার পর কন্টেকটার ভাড়া চাইতেই, পিছনের পকেটে হাত দিয়ে, ভাব ধরে বল্লাম, "মামা, ভুলে মানিব্যাগ বাসায় ফেলে এসেছি" কন্টেকটারের দিলে দয়া হলো, আমারে ছেড়ে দিলো। অথচ ওই আমলে আমার মানি ব্যাগই ছিলো না। আর ফিরার পথে ফার্মগেট থেকে উঠে একই কাহিনী করার পর, কন্টেকটার, ভাড়া নাই দেইখ্যা আমারে মহাখালি নামায় দিছে। ভীষণ ভীষণ মন খারাপ হইছিলো। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয় হয় অবস্থা, পেটে দানাপানি পড়ে নাই। রেল ক্রসিং এর ওই খানে বসে ছিলাম প্রায় ২০-২৫ মিনিট। হেটেই বিশ্বরোড যাবো কিনা, ভাবতেছিলাম। বিপদের সময়, আমার আবার বুদ্ধি হ্যাং হয়ে যায়। তাই, রেল লাইনের ধারে বসে, কোচিং এর দেয়া লেকচারশিট খুলে দেখলাম কিছুক্ষণ। আবার সাহস করে আরেকটা বাসে উঠে দাড়ালাম, একই সিস্টেমে মানি ব্যাগ ভুলে গেছি স্টাইলে, ভাড়া ছাড়াই শেষমেষ কুড়িল পৌঁছে গেলাম।

সিঙ্গারা লাঞ্চ ::

আর কোনো উপায় না দেখে, ফ্রেন্ডের চাচীর কাছে গিয়ে অনুনয় বিনয় করে ১০০ টাকা ধার চাইলাম। ফ্রেন্ডের বাসার একটু দুরেই ফ্রেন্ডের চাচার বাসা ছিল। ওই ১০০ টাকা ধার পাওয়া ছিলো, আমার কাছে লটারি পাওয়ার মতো। হয়তো আমার ক্ষুধাতুর মুখের দিকে তাকিয়ে উনার দয়া হয়েছিলো। কয়েকদিন আমার লাঞ্চ ছিলো, ফার্মগেটের কোনায় সিড়ির নিচে, ছোট্ট একটা কনফেকশনারী দোকানে। সেটায় এক টাকা দামের একটা সিঙ্গারা পাওয়া যেতো। নর্মাল সিঙ্গারা। কলিজা সিঙ্গারার দাম ছিলো দুই টাকা। আর ঐখানে পানি খাইতাম না। একগ্লাস ফিল্টার পানির দাম ছিলো এক টাকা। তাই ওইখান সিঙ্গারা খেয়ে, হেটে এসে, ওমেকাতে পানি খাইতাম দুই কি তিন গ্লাস।

পরিশোধ::

ওমেকার মিজান ভাইয়ের কাছে আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেক কৃতজ্ঞ। ৩৫০০ টাকা কোচিং ফি এর ১৫০০ টাকা তিন কিস্তিতে দিছিলাম। আর বুয়েটে চান্স পেয়ে, টিউশনি করে, এক বছর পরে, বাকি দুই হাজার ধার শোধ দিছিলাম।


FB post