First Intern - Struggle

Just another Dude.

স্ট্রাগল, টু বি কন্টিনিউড

টু পাইস কামিয়ে::

USA তে সামার ইন্টার্ন বলতে, মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত, উনিভার্সিটির ক্যাম্পাসের বাইরে কোন কোম্পানিতে, তিন মাসের জন্য জব করাকে বুঝায়। সামারে, সাধারণত কারো ক্লাস থাকে না, অনেকের ফান্ডও থাকে না। এই সময় ইন্টার্ন করলে, টু পাইস কামানো যায়, কিছু প্রফেশনাল এক্সপেরিয়েন্স হয়, যেটা দিয়ে ফুল টাইম জব পাইতে সুবিধা হয়। আমি জানুয়ারি ৩, ২০১০ এ নর্থ ডেকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি (NDSU) তে ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্ড ম্যানুফ্যাকচারিং ইঞ্জিনিয়ারিং (IME) এ মাস্টার্স করতে আসি। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে ভার্সিটিতে একটা ক্যারিয়ার ফেয়ার হয়েছিলো। সেটাতে খুবই সিরিয়াসলি গেলেও, কোন ইন্টারভিউ এর কল পাইনি।

ব্যাক টু দ্যা প্যাভিলিয়ন::

এপ্রিলের শুরুতে, এক ফ্যাকাল্টির ইমেইল অনুসারে, BTD Manufacturing এ রেজুমি জমা দিয়ে, ক্যাম্পাসে ইন্টারভিউর সুবাদে, মে মাসের প্রথম সপ্তাহে, একটা ইমেইল পেলাম, "তোমারে ইন্টার্নের জন্য সিলেক্ট করে, দু-দুইবার ফোন দিয়েও, কোনো উত্তর না পেয়ে, শেষবারের মতো জানতে চাচ্ছি, তুমি ইন্টারেস্টেড আছ নাকি"। আম্রিকান সরকারের একটা রুল আছে, সামারে ইন্টার্ন করার পারমিশন (CPT) পাইতে হইলে, কমপক্ষে দুই সেমিস্টারের পড়াশুনা কমপ্লিট করা থাকতে হবে। আমি আসছি জানুয়ারিতে, মে মাস নাগাদ, আমার একটা মাত্র সেমিস্টার কমপ্লিট হবে। তারপরেও দেখিনা কি হয় ভেবে, BTD কে ইয়েস বলে দিছি। এখন কি করা যায়, তার বুদ্ধি বের করতে, বাংলাদেশী বড় ভাই, জব করে এমন কয়েকজন, কিছু ভারতীয়, অন্য ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র, ইন্টারন্যাশনাল অফিসের লোকজন, এমনকি USCIS এ ফোন করলেও, সব চেষ্টার একই আউটপুট, "অফ-ক্যাম্পাস ইন্টার্ন করতে পারবা না, অন-ক্যাম্পাস কিছু পাও কিনা দ্যাখো"। শেষমেষ, আমার এডভাইজার শুনে বল্লো, ইলিগাল কিছু করে ধরা খাইলে, ডাইরেক্ট এয়ারপোর্ট নিয়ে, ব্যাক টু দ্যা প্যাভিলিয়ন।

যাই যাই ফ্যাক্টরি দেখতে যাই::

একটা সরকারী রুল মানে একটা বিশাল দেয়াল, একটা ফুল স্টপ, যার কথা শুনে হাত পা ছেড়ে দেয়াই স্বাভাবিক। শেষপর্যন্ত কি হবে বা কি করতে চাচ্ছি, যুক্তি দিয়ে কাউকে বুঝাতে না পারলেও, দেখিনা শেষপর্যন্ত কি হয় স্টাইলে এইটার পিছনে লেগে থাকলাম। উপান্তর খুঁজে না পাওয়ার মাঝেই, ওই কোম্পানি থেকে ইমেইল আসছে, মে মাসের ১৭ তে ইন্টার্ন শুরু হবে, তার আগে ১৩ তারিখে প্রোডাকশনের ভিপি, সবাইরে ফ্যাক্টরি দেখিয়ে, প্রজেক্ট বুঝায় দিবে। ঠিক করলাম, যাই হোক না কেনো, আগে ফ্যাক্টরিটা দেখে আসি। নিজের গাড়ি বা ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায়, অনেক কষ্টে, ফ্যাক্টরি দেখতে যাবার রাইড ম্যানেজ করি।

ল্যাটা চুকে গেলো ::

এর মাঝে, ডিপার্টমেন্টের VA Hospital রিসার্চ প্রজেক্টে, এক চিনকু রে, সামারে রিসার্চের জন্য হায়ার করা হইছে, যে পুরা সামারে, হসপিটালের ওয়ার্ক ফ্লো এনালাইসিস করে, প্রসেস ইমপ্রুভ করবে। ও অবজার্ভ করতে যাবে VA হসপিটালে, তারমানে কাজ করবে হসপিটালে কিন্তু রিপোর্ট করবে ডিপার্টমেন্টের প্রজেক্ট টিমরে আর তাকে বেতন দিবে ডিপার্টমেন্টের রিসার্চ ফান্ড। আমার মনে হইছে, এই টাইপের কিছু একটা BTD এর সাথে করলে, আমি ওদের ফ্যাক্টরিতে গেলেও, কাজ করবো ডিপার্টমেন্টের একটা প্রজেক্টের আন্ডারে, ডিপার্টমেন্ট আমাকে পে করবে, ব্যস ল্যাঠা চুকে যাবে। কিন্তু চ্যালেঞ্জ হচ্ছে তিনটা - ১. কোম্পানিকে রাজি করাতে হবে ২. কোনো এক ফ্যাকাল্টিকে রাজি করাতে হবে ৩. এক সপ্তাহের কম সময়ে এইটা সিস্টেম করতে হবে।

মাথামুন্ডু কিচ্ছু বুঝতে না পেরে::

ফ্যাক্টরি এবং প্রোডাকশন প্রসেস দেখে, বাংলাদেশে ইউনিলিভার, রহিমআফরোজে কনসালটেন্সির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে, চামে তিনটা ফিডব্যাক দিয়ে, আমি যে প্রোডাকশন প্রসেস ইমপ্রুভ করতে পারি বুঝিয়ে দিয়ে, মিটিং শেষে, আমার সমস্যার কথা প্রোডাকশনের ভিপি কে বল্লাম। সে বল্লো, "আমি বলে দিচ্ছি, তুমি HR - এর কাছে যাও"। অনেক কষ্টে HR কে বুঝায়ছি, আমাকে ডাইরেক্ট পে না করে, NDSU এর IME ডিপার্টমেন্টের কোন ফ্যাকাল্টিরে আমার কাজের জন্য একটা প্রজেক্ট দিলে, ডিপার্টমেন্ট আমাকে পে করবে। সব-শুনে, HR জানতে চাইসে, কোন ফ্যাকাল্টি? এডভাইজার আগেই ভয় লাগাইছে, কোন উপান্তর না দেখে, হুট করে যে ফ্যাকাল্টি ইন্টারভিউ এর জন্য রেজুমি চাইছিলো, তার নাম বলে দিছি। অথচ ওই ফ্যাকাল্টি, এই ব্যাপারে, কিছুই জানে না।

গুড এন্ড ব্যাড নিউজ

বাসায় এসে, ভার্সিটির ওয়েবসাইট থেকে, ওই ফ্যাকাল্টির ফোন নাম্বার বের করে, ফোনে কনভিন্স করতে ব্যর্থ হয়ে, সারারাত ভেবে ভেবে, পরের দিন সকালে তার অফিসে গিয়ে, উনার আন্ডারে ইন্ডিভিজুয়াল স্টাডি নামে একটা কোর্স রেজিস্ট্রেশন করেছিলাম। সামার প্রজেক্ট হিসেবে। সেটার এপ্রুভাল হিসেবে একটা ইমেইল নিয়ে, BTD তে যাওয়া শুরু করে দেয়ার পরেও, তিন-চার দিন পার হয়ে গেলেও, জানতাম না শেষপর্যন্ত কাজটা হবে কিনা। চাল্লু এক শ্রীলঙ্কান মেয়ে ইন্টার্ন, BTD তে যাওয়া আসার রাইড দেবার জন্য আরেক আম্রিকান ইন্টার্নকে রাজি করেছিলো, সপ্তাহে ২০ ডলার তেলের খরচ হিসেবে দিবে বলে। শ্রীলঙ্কান ঐ মেয়েকে দিয়ে তাকেও রাজি করিয়ে, আমি যাওয়া শুরু করেছিলাম। ফার্স্ট সপ্তাহের শুক্রবার বিকেলে, প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর এসে বললো, "গুড নিউজ হচ্ছে, IME ডিপার্টমেন্টের সাথে প্রজেক্ট ভার্বালি এপ্রোভ হইছে। ব্যাড নিজউ হচ্ছে, অফিসিয়ালি এপ্রুভ হইতে সামার শেষ হয়ে যেতে পারে, তার আগে তুমি টাকা পাবা না।"

কানেক্টেড ডট::

অফিসিয়ালি ইন্টার্ন না করতে পারলেও, একটা সাকসেসফুল সামার শেষে, নিজেই নিজেকে অবাক করে দিয়েছি। এখন পিছন ফিরে তাকালে, সহজেই ডটগুলো কানেক্টেড হয়ে ভেসে উঠে। সব স্টেপগুলোই লজিক্যাল মনে হয়। কিন্তু আপনি যখন একটার পর একটা স্টেপ সামনে আগাতে চাইবেন, সামনের ডট দেখতে না পেয়ে, দেখবেন বাধার দেয়াল। আর আশেপাশের মানুষগুলো যুক্তি দিয়ে, পিছনে ছিটকে ফেলে দিতে চাইবে আপনাকে।


FB post