First CS Intern- Struggle

Just another Dude.

স্ট্রাগল, টু বি কন্টিনিউড

বিকেলের টাইম স্লট::

ফেব্রুয়ারি, ২০১১ তে নর্থ ডেকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং এ মাস্টার্স বাদ দিয়ে কম্পিউটার সায়েন্সে পড়া শুরু করার দেড় মাসের মধ্যে, Clear Water Analytics এর ইন্টারভিউতে অনেকের সাথে আমিও কল পাই। ইচ্ছে করেই বিকেলের টাইম স্লট নিছিলাম যাতে অন্যদেরকে কাছ থেকে আগেভাগে প্রশ্ন জানা যায়। কিছু প্রশ্ন কমন পড়ছে আর বাকিগুলা আন্দাজে মেরে, সেকেন্ড রাউন্ডে ফোন ইন্টারভিউর জন্য সিলেক্টেডও হইছিলাম।

আর কোনো প্রশ্ন আছে?::

প্রোগ্রামিং এর ফোন ইন্টারভিউতে, সাধারণত ফোনে উত্তর বলার সাথে সাথে লাইভ কোড লেখা লাগে। যাতে ওরা দেখতে পারে আপনি কোডিং করতে পারেন কিনা। প্রথমেই, একটা সেন্টেন্স কে উল্টানোর (ডান থেকে বামে লিখার) প্রোগ্রাম করতে বলছিলো। অর্থাৎ ইনপুট হিসেবে, "I am a good boy" দিলে, আউটপুট দিবে -"yob doog a ma I" এইটা কেমনে করতে হয় আমি জানতাম না। তিন চার মিনিট গাইগুই করতে করতে গুগলে সার্চ দিয়ে যে উত্তর পাইছি সেটা বলতে বা লিখতে পারি নাই। অগত্যা বললাম "সরি, আমি এইটা পারতেছি না। আর কোন প্রশ্ন আছে?" তারপরে আরেকটা প্রশ্ন জিগ্যেস করেছিলো। ওইটার উত্তর খুঁজে পাওয়ার জন্য গুগলে কি লিখে সার্চ দিতে হবে সেটাই বুঝতে পারতেছিলাম না। শেষমেষ আর কোন উপায় না থাকায় বললাম -"সরি, এইটাও মনে হয় পারবো না। আর কোনো প্রশ্ন আছে?" ওরা বললো, "আর কোন প্রশ্ন নাই"। ব্যস, সাত মিনিটেই শেষ হয়ে যায় জীবনের ফার্স্ট লাইভ কোডিং ইন্টারভিউ।

ম্যাক্সিমাম বাম্বু::

মোটামুটি সব ইন্টারভিউতেই একই কন্ডিশন হতো। তবে, পরের দিন ফোন করে বলতাম আমার এক্সাম ছিলো, হাবিজাবি, আমারে আরেকবার চান্স দাও। কয়েকজন আরেকবার চান্স দেয়ার পরে সেকেন্ড টাইমেও বাম্বু খাইছিলাম। তবে যে যে প্রশ্ন করতো সেগুলা আমি একটা খাতায় লিখে রাখতাম। সেগুলা সলভ করার জন্য গুগল করতাম। দেশী-বিদেশী, সিনিয়র-জুনিয়র, ফ্যাকাল্টি-চাকরিজীবী যারে যেখানে চান্স পাইতাম সেখানেই প্রশ্নগুলার উত্তর দিতে বলতাম। নতুন ইন্টারভিউ আসলে আগের প্রশ্নগুলা রিভাইজ দিতাম। এর মধ্যে ImageTrend এ প্রথম ফোন ইন্টারভিউ খারাপ হইছিলো। ফোন করে আবার ইন্টারভিউ সেট করছিলাম। সেকেন্ডবার ইন্টারভিউ একটু কম খারাপ হওয়ায়, তাদের অফিসে গিয়ে সামনা-সামনি ইন্টারভিউ দেয়ার জন্য ডেকেছিলো।

জিপিএস ফ্লাই::

প্রায় ২৫০ মাইল দূরে ইন্টারভিউ দিতে যাওয়ার জন্য বাস বা ট্রেনের সিস্টেম নাই। একমাত্র উপায় হচ্ছে গাড়ি রেন্ট করে ড্রাইভ করা। এর আগে কখনোই হাইওয়েতে গাড়ি চালাইনি বলে অনেক অনেক ভয় পাইছিলাম। ব্যাঙ্কে আমার হাজার খানেক ডলার ছিলো। সেটাই অরেকজনের নামে চেক লিখে সাথে একটা নোট রেখেছিলাম আমার ড্রয়ারে, "ভাই, আমার কিছু হয়ে গেলে, এই টাকাটা আমার ফ্যামিলিকে দিয়ে দিয়েন"। হাইওয়েতে উঠে গাড়ি চালানোর চাইতে বড় সমস্যা হইছিলো জিপিএস ধরে রাখা। জিপিএস গাড়ির গ্লাসে আটকিয়ে রাখা যায় সেটাই জানতাম না। এই জিপিএস দেখতে গিয়ে ফ্লাইওভারের সাইডে গাড়ি উঠায় দিছিলাম। আল্লাহ মাফ করছিলো। হালকা ঘষা খাইছিলো মাত্র। কত যে হর্ন খাইছিলাম, বেশ কয়েকবার ওয়ান ওয়ে রাস্তায় উল্টা দিক থেকে ঢুকে পড়েছিলাম, সাত আটবার হাইওয়েতে ভুল এক্সিট নিয়ে ফেলছিলাম।

অদ্ভুত দুনিয়া::

আমি ছাড়াও আরো কয়েকজন ভারতীয় ImageTrend এর অফিসে গিয়ে সামনা সামনি ইন্টারভিউ দিছিলো। এর মধ্যে আমার দুইটা গ্রুপ প্রজেক্টের যে ৮০% কাজ করতো সেও ছিলো। বাকি ১৫% কাজ করতো অন্য দুই গ্রুপ মেম্বার। আমি খালি ইমেইল দিতাম, গ্রুপ মিটিং সেট করতাম আর হা করে বসে থাকতাম। মাথায় কিচ্ছু না ঢুকলেও মিটিং মিস করতাম না। মিনিয়াপোলিস যাওয়ার আগে অনেকগুলা ইন্টারভিউ প্রশ্নের উত্তর কয়েকটা সিডি তে রাইট করে নিছিলাম। ড্রাইভিং করার সময় গান না শুনে সেই সিডি কয়েকবার রিভাইজ দিছিলাম। শেষ পর্যন্ত দেখা গেলো, আমাদের গ্রুপে যে ৮০% কাজ করে, যে আমার চাইতে দুইশগুণ ভালো প্রোগামিং পারে, তার ইন্টার্ন হয় নাই, আমার হইছে। দুনিয়া আসলেই বড় অদ্ভুত।

ডেইলি ১০ ডলার::

ইন্টার্ন করতে যাওয়ার সময়ও আমার গাড়ি ছিলো না। এক চাইনিজের গাড়ি ড্রাইভ করে মিনিয়াপোলিস গেছিলাম। যার বাসা তিন মাসের জন্য রেন্ট করছিলাম তার এক্সট্রা একটা গাড়ি ছিলো। তাকে কনভিন্স করছিলাম তার গাড়ি চালায় ৫ মিনিট ড্রাইভিং দূরত্বে অফিসে যাবো আর আসবো। তাকে ডেইলি ১০ ডলার করে দিবো। কয়দিন পরে তার যে গাড়িটা সে চালাতো সেটা নষ্ট হয়ে গেছিলো। এখন এই গাড়িটা তার লাগবে। বিকল্প পন্থা হিসেবে তার সাইকেল নিয়ে যাওয়া আসা শুরু করছিলাম। সেটাও একদিন রাস্তার মাঝখানে নষ্ট হয়ে গেছিলো। তারপর থেকে দৈনিক ৫০ মিনিট হেটে অফিসে যাইতাম, ৫০ মিনিট হেটে ফেরত আসতাম। ছোট ছোট পাহাড়ের মতো উঁচু নিচু রাস্তার সাইডে হাটার জন্য লেন ছিলো না। কানের কাছ দিয়ে শো শো করে গাড়িগুলো চলে যেতো। ইন্টার্ন শেষ হবার তিন সপ্তাহ আগে ইন্টার্নের ১,৭৫০ ডলার দিয়ে একটা ৯৫ সালের টয়োটা ক্যামরি কিনেছিলাম।

সঙ্গত কারণেই রিক্ত হস্তে::

অফিস যাওয়া আসার চাইতেও বড় সমস্যা ছিলো প্রফেশনাল লেভেলে ওয়েব ডেভেলপমেন্টের কাজ করা। ইন্টার্নের আগে html, css, javascript কয়েকটা টিউটরিয়াল দেখলেও, কাজ করার জন্য যথেষ্ট জ্ঞান ছিলো না। কোন একটা কাজ দুই তিনবার বুঝায় দেয়ার পরেও উল্টাপাল্টা করে ফেলতাম। আমার কোড রিভিউ করে ফিডব্যাক দিলেও, সেটা ঠিক মতো কারেকশন করতে পারতাম না। সবার আগে আগে সকাল ৭টায় যাইতাম। সারাদিন গুগলরে গুঁতাই গুঁতাই অন্য ইন্টার্নের অর্ধেকের সমান কাজও করতে পারতাম না। এর ওর পিছু পিছু ঘুরে, কিছু বুঝে - কিছু না বুঝে, উইকেন্ডেও একা একাই অফিসে সাধনা চালাতে থাকলাম। ইন্টার্ন শেষের দিকে ওদেরকে বলছিলাম ফুল টাইম হিসেবে হায়ার করতে, সঙ্গত কারণেই ওরা না করে দিছিলো। তাই সামার শেষে ফিরে আসতে হয়েছিলো নর্থ ডেকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে।


FB post